ঋণগ্রস্ততার দুষ্টচক্র কার জন্য

অর্থনীতির নানা ঘাত-প্রতিঘাতও নিছক অর্থনীতির বিষয় নয়, এটা সমাজের শক্তি সমাবেশ ও ক্ষমতা কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্তমানে যেভাবে চলছে, অনেকের উৎপাদিত সম্পদ কিছুজনের হাতে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়া কিংবা কিছুজনের স্বার্থে বহুজনের জীবন বিপন্ন করা কোনো স্বয়ংক্রিয় ঘটনা নয়। তা নির্দিষ্ট নীতি, পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রের নানা কর্মকাণ্ডের ফল। বাংলাদেশে সরকার তার নীতিদর্শন অনুযায়ী দেশে লুম্পেন পুঁজিপতি বিকাশে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। সর্বজনের সম্পদ কিছুজনের হাতে পৌঁছানো তাই সরকার দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছে। বর্তমান…বিস্তারিত

কেন কর দেব

সম্প্রতি ঢাকার জুরাইনসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার আন্দোলনে দাবি তুলেছেন- 'বিষের বদলে পানি চাই, বিষের জন্য বিল নাই।' তারা তথ্যপ্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছেন ওয়াসার পানি কী মাত্রায় বিষাক্ত এবং তার জন্য মানুষের দৈনন্দিন জীবন কীভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে, অসুখ-বিসুখ বাড়ছে, জীবন বিপন্ন হচ্ছে। বস্তুত এটা শুধু জুরাইনের নয়; ঢাকার প্রায় সব অঞ্চলেই পানি অনিরাপদ। অথচ মানুষ বিল দিচ্ছে বিশুদ্ধ, নিরাপদ পানির জন্য। তাই নিরাপদ পানি না পেলে বিল দেওয়া বন্ধ…বিস্তারিত

‘উন্নয়নের’ রোল মডেল ও বাজেট

উন্নয়ন বলতে বোঝায় বিদ্যমান সম্পদ ও সক্ষমতাকে বাড়ানো, জীবনকে আরও সহজ, আরামদায়ক ও নিরাপদ করা, জ্ঞান বিদ্যা যোগাযোগ বিনোদনের জগৎ প্রসারিত করা। যদি দেখা যায় সম্পদ ও সক্ষমতা আরও বিপর্যস্ত হচ্ছে, যদি দেখা যায় জীবন আরও কঠিন, অনিশ্চিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে, যদি দেখা যায় চারপাশের জগৎ আরও বিপর্যস্ত হচ্ছে, তাহলে তাকে কি আমরা উন্নয়ন বলতে পারি? সরকারের মুখে এখন হরদম শুনি ‘বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল’, আর চোখের সামনে দেখি নিমতলী-চুড়িহাট্টা…বিস্তারিত

ফ্রিদা কাহলোর শহরে

'মেক্সিকো সিটি’ নামে পরিচিত এই শহরের প্রতিষ্ঠা স্পেনীয় দখলদারদের হাতে। এই শহরের পাশেই ২৫ মাইল দূরে দখলপূর্ব প্রাচীন শহর তিওতিহুয়াকান (ঈশ্বরের জন্মভূমি) মেক্সিকোর প্রাচীন সভ্যতাকেন্দ্র। এখানে সূর্য আর চন্দ্র দেবতার উদ্দেশে নির্মিত পিরামিডগুলো সে সময়ের উন্নতমানের স্থাপত্য, নির্মাণশৈলী ও অর্থনৈতিক শক্তি নির্দেশ করে। প্রাচীন সভ্যতার স্মৃতি মুছে ফেলতে স্পেনীয়রা পত্তন করে নতুন শহর। মেক্সিকোজুড়ে দখলপূর্ব আর পরবর্তী শৈল্পিক নির্মাণের সহাবস্থান। মেক্সিকো সিটিতে দর্শনীয় ভাস্কর্য আর স্থাপত্যের ছড়াছড়ি।প্রায় ১০ হাজার বছরের…বিস্তারিত

পাটশিল্প কেন রুগ্‌ণ হলো

পাটশিল্পে লোকসানের সব কারণ অব্যাহত রেখে রুগ্‌ণ অবস্থা বাড়ানো হয়েছে। এক পর্যায়ে মজুরি দেওয়া বন্ধ, লে-অফ ঘোষণা, হুমকি ইত্যাদির মধ্য দিয়ে একের পর এক পাটকলগুলো বন্ধ করা হয়েছে। এই ধারাতেই ২০০২ সালের ৩০ জুন আদমজী বন্ধ হয়েছে। খুলনা-যশোর অঞ্চলেও একই প্রক্রিয়া চলল। একদিকে যখন লাখো মানুষ কাজ থেকে ছিটকে পড়েছে, তখন প্রশংসার ঝর্ণা বইতে থাকল অন্যদিকে। ১৬ জুলাই ২০০২ দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জন্য বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিকো নিশিমিজু বিদেশ থেকে…বিস্তারিত

প্রফেসর সাহেব

ছোটবেলা থেকে আমরা তাঁকে এই নামেই চিনি। কেননা তাঁকে আমাদের দেখা-জানা সব লোকজন ‘প্রফেসর সাহেব’ নামেই ডাকতেন। বেশ কয়েকটি কলেজে শিক্ষকতা সূত্রে তাঁর এ পরিচয় তৈরি হয়। ছোটবেলায় রাগী, গম্ভীর ভাবমূর্তির এ মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার সাহস আমাদের ছিল না। তিনি আমাদের পিতা প্রফেসর মো. আজগর আলী (১৯২৭-২০০৩)। বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজের জীবনের টুকরো টুকরো অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন, মৃত্যুর পর তাঁর সেসব নোটবই আমাদের হাতে আসে। পূর্ব বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে…বিস্তারিত

বাংলাদেশে পাটশিল্প বিনাশের দায় কার

বছরের পর বছর পাটকল শ্রমিকদের দফায় দফায় রাস্তায় আসতে হচ্ছে নিজেদের পাওনা মজুরির দাবিতে। বারবার তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা ভঙ্গ করা হয়েছে। গত কয়দিন ধরে ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রামে হাজার হাজার অভুক্ত শ্রমিক রাস্তায়। নতুন বেতন স্কেলে কর্মকর্তারা বেতন নিচ্ছেন; কিন্তু শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি ঘোষণা তো দূরের কথা, বকেয়া মজুরিই শোধ করা হচ্ছে না। অন্যদিকে পাটকলগুলোতে লোকসানের বোঝা বাড়ছেই। কেন এই পরিস্থিতি? বাংলাদেশে পাটশিল্পের প্রধান কেন্দ্রগুলোর একটি খুলনা। খালিশপুর…বিস্তারিত

Workers’ cry in workers’ land

Bangladesh is a workers’ land. More than seven million people are working here as manufacturing workers, nearly nine million in hotels and tea shops, more than four million in transport, two million in construction and more than 20 million women and men are actively engaged in agriculture. With their unemployed dependents, they constitute more than 90 percent of the population, and yet they share less than 20 per cent of…বিস্তারিত

বিশ্বায়নের বুমেরাং ও ট্রাম্প জমানা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইপর্বের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় আসার আয়োজনে ব্যস্ত। ইরান চুক্তি বাতিল, কিউবার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির বদলে আরও অবরোধ, ভেনেজুয়েলায় সরাসরি সামরিক বাহিনীকে উসকানি কিংবা সামরিক আগ্রাসনের হুমকি, জবরদস্তি করে অন্য তহবিল থেকে টাকা নিয়ে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলা, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের আগ্রাসনে প্রত্যক্ষ মদদদান, চীনের ওপর খবরদারি ও বাণিজ্যযুদ্ধের পাশাপাশি সামরিক হুমকি বৃদ্ধি, বিশ্ব পরিবেশ চুক্তি থেকে প্রত্যাহার—সবই ট্রাম্প-সমর্থক যুদ্ধবাজ, বর্ণবাদী, সাম্প্রদায়িক ও বৃহৎ…বিস্তারিত

দূষণ ও বাণিজ্যিক দখলে পানিসম্পদ

ওয়াসার এমডি ঢাকা শহরে পানি শতভাগ বিশুদ্ধ বলে দাবি করেছেন। তার জবাব দিয়েছেন জুরাইনের মিজান পরিবারসহ ঢাকার কয়েকজন নাগরিক, ওয়াসার পানি নিয়ে তাদের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়েছেন। ওয়াসার এমডি একা নন, সরকারের দলিলপত্রেও তথ্য রকমই। সারা দুনিয়াকে জানানো হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছেন। অথচ আমরা জানি, দেশের ৩০ শতাংশ মানুষ আর্সেনিক আক্রান্ত এলাকায়। ছাড়া পাইপলাইনে যে পানি সরবরাহ করা হয়, তা ঢাকায় তো বটেই, দেশের অনেক স্থানেই ফুটিয়ে খাওয়ার পরও নিশ্চিন্ত থাকা যায় না। সমস্যা ওয়াসার একক নয়, এর পেছনে বিদ্যমান উন্নয়ন দর্শন সর্বজনের সম্পদে করপোরেট আধিপত্য প্রতিষ্ঠার নানা জালও দেখতে পাওয়া যায়। শুধু বাংলাদেশেও নয়। একসময় কোনো কিছুর দাম খুবই নগণ্য হলে আমরা বলতাম 'পানির মতো দাম'; কিন্তু এখন তা বলার উপায় নেই। বাণিজ্যিকীকরণ প্রক্রিয়ায় পানির দাম এখন কোনো কোনো দেশে জ্বালানি তেলের চেয়েও বেশি। পানি এখন মুনাফার বাণিজ্যে ক্রমান্বয়ে আটকে যাচ্ছে। মাটির ওপরের নিচের কোনো পানিই আর সর্বজনের সম্পদ থাকছে না। দখলে চলে যাচ্ছে কিছু কোম্পানির হাতে; কিন্তু একটি সরল প্রশ্ন আমাদের মাথায় রাখতেই হবে। পানি প্রকৃতির অংশ, এটা কেউ তৈরি করেনি। এটি সব মানুষের। প্রয়োজনীয় পানি সবার জন্মগত অধিকার। এই পানি কেন কোম্পানির মালিকানায় যাবে? পানি কেন পণ্যে পরিণত হবে? কেন পানি কিনে খেতে হবে? সবার জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ কেন রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে না? ওয়াসার মতো প্রতিষ্ঠান কেন দক্ষ সক্ষম হয়ে উঠবে না, কেন দেশি-বিদেশি কোম্পানির রাস্তা পরিস্কার করতে নিয়োজিত হবে? বেঁচে থাকার জন্য পানি ছাড়া আমাদের উপায় নেই। নাইজেরিয়ার একজন কবির কবিতার বাংলা রূপটি রকম হতে পারে- 'রাজা ছাড়া মানুষ বাঁচে/ মানুষ ছাড়া রাজ্য বাঁচে না। পশু ছাড়া ঘাস বাঁচে/ ঘাস ছাড়া পশু বাঁচে না। পান ছাড়া পানি বাঁচে/ পানি ছাড়া প্রাণ বাঁচে না।' পানি শুধু পান করার জন্যই নয়, জগৎ টিকিয়ে রাখার জন্য, অন্য সব খাদ্য উৎপাদনের জন্যও পানি অপরিহার্য। এই অপরিহার্যতাই পানির দিকে কোম্পানির মুনাফার আকর্ষণ তৈরি করেছে আর তাতে পৃথিবীর সর্বত্র মানুষের বিপদ বেড়েছে। পৃথিবীর ভাগের ভাগই পানি। আমাদের শরীরের পানির অনুপাতও রকমই। এই পানি প্রাচুর্যের মধ্যে বাস করেও আমরা দেখছি, পানি ক্রমেই একটি দুর্লভ ব্যয়বহুল পণ্যে পরিণত হচ্ছে। একদিকে খাদ্য নিয়ে বিলাসিতা; অন্যদিকে নূ্যনতম খাদ্যের জন্য হাহাকার। একদিকে পানির অপরিমিত ব্যবহার, পানির যথেচ্ছাচার দূষণ; অন্যদিকে নূ্যনতম পানির জন্য কোটি কোটি মানুষের মরণদশা- এই বৈপরীত্যই বর্তমান বিশ্বের চিত্র। পৃথিবীর যত পানি তার প্রায় ৯৭. শতাংশই সমুদ্রে; অতএব নোনা। এই পানি ধারণ করে আছে জানা-অজানা অনেক সম্পদ। বাকি . শতাংশের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি জমে আছে বরফ হয়ে, যা জলবায়ুর ভারসাম্য রায় গুরুত্বপূর্ণ। বাকি পানির তিন-চতুর্থাংশই ভূগর্ভস্থ পানি, যা এই পৃথিবীকে শুধু বাঁচিয়ে রাখেনি, তাকে অবিরাম সৃজনশীল রেখেছে। বাকি অর্থাৎ মাত্র . শতাংশ পানি আছে নদী, খাল-বিল, জলাশয় ইত্যাদিতে। অতএব, পৃথিবীর মোট পানির শতাংশেরও কম পানযোগ্য। বাংলাদেশের সমতলে বিপুল সুপেয় পানির আধারের মধ্যে বাস করে- এটা কল্পনা করাও কঠিন যে, পৃথিবীর বহু দেশ এই পানযোগ্য পানিরই ভয়াবহ সংকটের মধ্যে বাস করে। কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলে খাবার পানি সংগ্রহের জন্য প্রতিদিন মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়। একেকজনকে দিনে অন্তত ঘণ্টা এই কাজে ব্যয় করতে হয়। আর এই কাজ করতে হয় মেয়েদেরই। প্রতিদিন ভারী পাত্র নিয়ে তাদের মাইলের পর মাইল হাঁটার দৃশ্য খুব পরিচিত। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের কোথাও কোথাও প্রায় একই অবস্থা। ভারত-পাকিস্তানেও বহু অঞ্চল আছে, যেখানে একটি জলাশয় বা একটি কূপ থেকে পানি সংগ্রহের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে, এর কোনো বিকল্প নেই। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অধিকাংশ এলাকাতেও খাবার পানির সংকট প্রকট। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ দূর করে সুপেয় পানির জোগান দিচ্ছে। বর্তমানে প্রধানত পারস্য উপসাগর-তীরবর্তী দেশগুলোতে প্রায় ১৫ হাজার ডিস্যালিনাইজেশন পল্গ্যান্ট থেকে প্রায় দুই হাজার কোটি গ্যালন সুপেয় পানি জোগান দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সুপেয় পানির যখন রকম সংকট, তখন বাংলাদেশে সুপেয় নিরাপদ পানির সংকট তৈরি হচ্ছে 'উন্নয়ন' নামের আগ্রাসী তৎপরতার কারণেও। কোম্পানি-নির্ভর কৃষি যান্ত্রিক সেচের মাধ্যমে বিপুল পানির চাহিদা তৈরির মাধ্যমে একদিকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে; অন্যদিকে রাসায়নিক সার, কীটনাশকের অত্যধিক ব্যবহার ভূউপরিস্থ পানি দূষিত করছে। ছাড়াও আছে ভবন বাণিজ্যের সম্প্রসারণে নদী, খাল-বিল, জলাশয় ভরাট করার অপ্রতিরোধ্য যাত্রা। ইটভাটা, শিল্পবর্জ্য তো আছেই। আছে সেচ কার্যক্রম সম্প্রসারণ, কোথাও বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে, কোথাও সড়ক পরিবহনের সুবিধার জন্য বাছবিচারহীনভাবে বাঁধ-কালভার্ট নির্মাণ। এগুলোর ফলে কোথাও নদীর অবাধ প্রবাহ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও পানির প্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে পানি-মাটি অতঃপর মানুষ বিপর্যস্ত হচ্ছে। শুধু দেশের ভেতর নয়, ভারতে নির্মিত বাঁধ এবং পানি নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনাও বাংলাদেশের জন্য হুমকি। ফারাক্কা বাঁধ গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন, নদীর প্রবাহ, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা, জীববৈচিত্র্য সবকিছুরই অপরিমেয় ক্ষতি করেছে। ভারতের কোনো কোনো অঞ্চলও এখন এর জন্য ক্ষতির শিকার। এর ওপর আবার টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে পরিকল্পনা চলছে। সম্প্রতি চীনও ব্রহ্মপুত্র নিয়ে যে বাঁধ পরিকল্পনা করছে, তা বাস্তবায়িত হলে ভারত-বাংলাদেশ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সারাবিশ্বেই বাঁধ একটি বড় বাণিজ্যিক তৎপরতা। শুধু বাঁধের কারণে বিশ্বব্যাপী কমপক্ষে আট কোটি মানুষ এখন উদ্বাস্তু। বিশ্বব্যাপী পানিদূষণের আর একটি বড় কারণ যুদ্ধাস্ত্র গবেষণা তার ব্যবহার। সমুদ্রে, মহাকাশসহ বিভিন্ন স্থানে পারমাণবিক, রাসায়নিক যুদ্ধাস্ত্র গবেষণা বা প্রয়োগ করতে গিয়ে কিংবা দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে বায়ুমণ্ডল থেকে ভূগর্ভস্থ পর্যন্ত সবই বিপজ্জনক মাত্রায় দূষণের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি জাপানে তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র একটি পারমাণবিক দুর্ঘটনাতেই বায়ু, পানি, খাদ্য সবকিছুর ওপর যে ভয়াবহ প্রভাবের খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বিশ্বব্যাপী এগুলোর সম্ভাব্য বিপদ কল্পনা করাও কঠিন। সার্বক্ষণিক বিষাক্ত এসব অস্ত্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল কী হচ্ছে, তার বেশিরভাগই আমাদের অজানা। কেননা যারা এসবের জন্য দায়ী, প্রচারযন্ত্রের ওপরও তাদেরই নিয়ন্ত্রণ। পানি একদিকে দূষণ অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে, অন্যদিকে সৃষ্ট সংকটের সুযোগ নিয়ে মানুষের পানি দখলে নিচ্ছে কোম্পানি। আশির দশকের শুরু থেকেই উন্নয়নের নামে জগতের বাকি সবকিছু ব্যক্তিমালিকানা, বাণিজ্য আর মুনাফার কর্তৃত্বে আনার উন্মাদনা সৃষ্টি করা হয়। সড়ক, রেলপথ, শিক্ষা, চিকিৎসা, খনিজসম্পদ, বিদ্যুৎ শুধু নয়, ক্রমে পানিও এই আগ্রাসনের অধীন। এই কাজে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো পানির বাণিজ্যিকীকরণে সবচেয়ে অগ্রণী। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এডিবির ভূমিকাও সক্রিয়। তবে বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকে যত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যক্তিমালিকানার বাণিজ্যিক তৎপরতার আওতায় আনা হয়েছিল, তার ৮৪ ভাগ ২০০৭ পর্যন্ত টিকে আছে,…বিস্তারিত

Page 5 of 29