করোনাকাল: যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ

বর্তমান পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার প্রধান খুঁটি চারটি: যুদ্ধ-সমরাস্ত্র, জীবাশ্ম জ্বালানি, আর্থিক খাত ও কৃষিতে বিষের বাণিজ্য। এই চারটি ক্ষেত্রেই গুরু হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যে বিশ্বের সবচেয়ে পরাক্রমশালী। সারা বিশ্বে যুদ্ধ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং পারমাণবিক-রাসায়নিক-জৈব অস্ত্র গবেষণা ও মজুতের যে ভয়ংকর চিত্র, তার পেছনের প্রধান শক্তি হচ্ছে এই দেশ। এত পরাক্রমশালী হওয়া সত্ত্বেও করোনাভাইরাসের আক্রমণে দেশটি এককভাবে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত।বাংলাদেশের মতো অনেক দেশের সরকারই বলতে পারে, যেখানে এত পরাক্রমশালী যুক্তরাষ্ট্র পারল না,…বিস্তারিত

নাজুক জীবনে মহামারির হানা

কোভিড-১৯ একটি সাম্যবাদী রোগ—এ রকম কথা গত কিছুদিনে অনেকের মুখেই শুনেছি। কথাটা সত্য, তবে আংশিক। সত্য এই কারণে যে করোনাভাইরাসের আক্রমণ দেশ, অঞ্চল, শ্রেণি, লিঙ্গ, জাতি, বয়স কোনো কিছুকেই ছাড় দিচ্ছে না; সবাই নির্বিচার এর আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এর আগে আর কোনো ঘটনা বিশ্বের সব প্রান্তের সব মানুষকে এভাবে আতঙ্কিত ও অস্থির করেনি। আর কোনো ঘটনা এভাবে বিশ্বের সব প্রান্তের অর্থনীতি স্থবির করে দেয়নি; পুরো বিশ্বকে এভাবে থামিয়ে দিতে পারেনি।…বিস্তারিত

করোনা, ক্ষুধা ও রাষ্ট্রের লাঠি

১৬ কোটি মানুষের বাস এই বাংলাদেশে। কিন্তু ভাইরাসের পরীক্ষা হয়েছে মাত্র হাজারখানেক। একজন ফেসবুক মন্তব্যে লিখেছেন, ‘স্কুলে পরীক্ষা না হলে তো আর কেউ ফেল করে না। বাংলাদেশের সেই দশা।’ সংবাদপত্রে প্রকাশিত একাধিক খবরে জানা যায়, অনেকে লক্ষণ নিয়ে যোগাযোগ করলেও টেস্ট করার সুযোগ পাচ্ছেন না। একই রকম লক্ষণ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন—এ রকম খবরও আছে। লক্ষণ আছে কিন্তু শনাক্ত হয়নি, অথচ এ রকম একটি ক্ষেত্রেও যদি করোনাভাইরাস আক্রান্ত সত্যি হয়ে থাকে…বিস্তারিত

থেমে যাওয়া থেকে চাই নতুন শুরু

দুনিয়া এখন থেমে আছে। চোখে দেখা যায় না এ রকম ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র করোনাভাইরাস দুনিয়াকে একদিকে থামিয়ে দিয়েছে; অন্যদিকে তার চেহারা উদাম করে দিয়েছে। এ রকম সময় মাঝেমধ্যে আসে, যখন সবকিছু উদাম হয়ে যায়। ট্রিলিয়ন ডলারের যুদ্ধ অর্থনীতি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মুহূর্তে লাখো মানুষ হত্যার সরঞ্জাম সবকিছু নিয়ে বিশ্ব এখন করোনাভাইরাসের কাছে পুরোই অসহায়। বর্তমান বিশ্ব (অ)ব্যবস্থা মানুষ খুন করতে, পরিবেশ বিনাশ করতে, যত সম্পদ দরকার দিতে রাজি, মানুষের নিরাপত্তার জন্য…বিস্তারিত

ভর্তুকি সুদে ঋণের প্যাকেজ

গত ৩ এপ্রিল আমরা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গবেষক, সংগঠকদের পক্ষ থেকে দেয়া এক যুক্ত বিবৃতিতে করোনাভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারের করণীয় বলে ছয়টি কাজ নির্দেশ করেছিলাম।এগুলো হল: (১) অন্তত তিনমাসের জন্য এক কোটি পরিবারকে বিনামূল্যে খাদ্যসহ অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যাদির যোগান। (২) বিনামূল্যে সকলের চিকিৎসা নিশ্চিত করা। (৩) কৃষকের ফসল, সবজি, ফলের সঠিক দাম নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কৃষিপণ্য ক্রয়ব্যবস্থা সম্প্রসারণ। (৪) সকল প্রতিষ্ঠানে বেতন মজুরি নিশ্চিত করা। (৫) ক্ষুদে উদ্যোক্তা ও…বিস্তারিত

মানুষ ভরসা খুঁজবে কোথায়?

‘আমাদের আর কী হবে? আল্লাহই বাঁচাবে, মরণ এলে কি আর বাঁচাতে পারবে কেউ?’ এরকম কথা অনেকের মুখেই শোনা যায়, কিন্তু সবাই একই কারণে বলেন না। শ্রমজীবী মানুষ যাদের দিন এনে দিন খেতে হয়, বাইরে না বের হলে না খেয়েই মরার অবস্থা যাদের বর্তমান সংকটকালে তারা এই ধরনের কথা বলেন বুকে বল আনার জন্য। প্রকৃত চিত্র তুলে ধরলে, বা তাদের বিকল্প ব্যবস্থার কিছু উপায় দিতে পারলে তারাও নিয়মকানুন মেনে চলবেন। কিন্তু…বিস্তারিত

বর্জ্যবান্ধব উন্নয়নের স্থানিক ও বৈশ্বিক বিপদ

অজানা বিপদ করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে অভূতপূর্ব মাত্রায় অস্থির করে তুলেছে। শুধু এই রোগের নয়, ভয়েরও বৈশ্বিক মহামারি তৈরি হয়েছে। উৎপাদন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, জীবনযাপন—সবই এখন ওলটপালট অবস্থায়। এর উৎস নিয়ে এখনো স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। কিন্তু এটা নিশ্চিত বলা যায় যে এটা একটা সংকেত। সামনের দিনে আমরা আরও নতুন নতুন অজানা রোগের কবলে পড়ব। বিশ্বের মানুষ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় পরস্পরের সঙ্গে অনেক বেশি যুক্ত, এ কারণে বারবারই তা…বিস্তারিত

জারা থেকে ত্বকী

২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকালে নারায়ণগঞ্জে সুধীজন পাঠাগারে পড়াশোনার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়েছিল তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী (১৯৯৫-২০১৩)। পথ থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেদিন রাতেই নির্যাতন করে তাকে খুন করা হয়। ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীতে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়। ত্বকী হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে তদন্ত হয়েছে, প্রমাণাদি সংগৃহীত হয়েছে, আলামতসহ সবকিছু থেকে শনাক্ত হয়েছে খুনি কারা। শনাক্ত হওয়ার পরই নির্দেশ এসেছে সবকিছু পাথরচাপা দেয়ার। সেই পাথর…বিস্তারিত

Media under surveillance capitalism

Yes, our world has entered into a new phase of rule which can be termed as surveillance capitalism, at home as well as on a global scale. Shoshana Zuboff, the author of The Age of Surveillance Capitalismwrites, “At its core, surveillance capitalism is parasitic and self-referential. It revives Karl Marx’s old image of capitalism as a vampire that feeds on labour, but with an unexpected turn. Instead of labour, surveillance…বিস্তারিত

কর্তৃত্ববাদী সময় কিংবা 'উন্নয়ন'

বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে 'নির্বাচনী কর্তৃত্ববাদ' বিষয়ে এক গবেষণা গ্রন্থে বিষয়টি সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এইভাবে : ''নির্বাচনী কর্তৃত্ববাদ বা ইলেক্টোরাল অথরিটারিয়ানিজমে জনপ্রতিনিধি সরকারপ্রধান নির্বাচিত করার জন্য নিয়মিতই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ন্যায্যতার উদার গণতান্ত্রিক নীতিমালাকে এমন ব্যাপক পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘন করা হয় যে, নির্বাচন বিষয়টি 'গণতন্ত্রের হাতিয়ারে' বদলে কর্তৃত্ববাদের হাতিয়ারে পরিণত হয়।'' গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, 'নির্বাচনী কর্তৃত্ববাদী শাসনে নির্বাচন মোটা দাগে অংশগ্রহণমূলক হয় (সর্বজনীন ভোটাধিকারের স্বীকৃতি থাকে), নূ্যনতম প্রতিযোগিতামূলক (বিরোধী দলগুলোকে জয়লাভ করতে দেওয়া না হলেও নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়) নূ্যনতম উন্মুক্ত (বিরোধী দলগুলোকে সর্বাত্মক দমন-পীড়ন চালানো হয় না; কিন্তু বাছাই করে মাঝেমধ্যেই দমন-পীড়ন করা হয়) থাকে। তবে সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় এত মারাত্মক, ব্যাপক পদ্ধতিগতভাবে রাষ্ট্রীয় প্রভাব বিস্তার করা হয় যে, তখন আর তাকে গণতান্ত্রিক বলা চলে না। কর্তৃত্ববাদী প্রভাব বিস্তার নানাভাবেই করা হয়। কিন্তু সবকিছুর মূল উদ্দেশ্য থাকে নির্বাচনী ফলাফলের অনিশ্চয়তাকে মোকাবিলা করা।' এতে আরও বলা হয়েছে, ব্যবস্থায় 'বৈষম্যমূলক নির্বাচনী আইন, বিরোধী দল প্রার্থীদের নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে রাখা, তাদের রাজনৈতিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, তাদের গণমাধ্যমে অংশগ্রহণ অর্থ সংগ্রহে নিয়ন্ত্রণ আরোপ, সমর্থকদের ভোটাধিকারে আনুষ্ঠানিক অনানুষ্ঠানিক নানা উপায়ে বাধাদান, ভয়ভীতি কিংবা প্রলোভনের মাধ্যমে পক্ষত্যাগ করানো কিংবা স্রেফ ভোট জালিয়াতি করা'- সবই হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, "রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণের পথ হিসেবে বহুদলীয় প্রতিযোগিতাকে স্বীকার করে নিয়ে নির্বাচনী কর্তৃত্ববাদী সরকার রাজনৈতিক বিরোধিতার আইনি বৈধতা প্রদান করে। যদিও তারা বিরোধী শক্তিকে তাদের নিজেদের সুবিধামতো আকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি বিরোধী দল গড়ে তোলা হয় এবং তাদের জন্য সুবিধাজনক আদর্শিক অবস্থানও বরাদ্দ করা হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে 'সমস্যাজনক' বিরোধী দল প্রার্থীদের সরিয়ে রাখার ব্যবস্থাও করা হয়।" গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ''নির্বাচনী কর্তৃত্ববাদে 'সুলতানি প্রবণতা' দেখা যেতে পারে, যেখানে পরিবারতান্ত্রিক শাসকরা নিয়মিত বহুদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতার বৈধতা আদায় করে নেয়। কর্তৃত্ববাদী নির্বাচনের সাংগঠনিক প্রয়োজনে এই ব্যক্তিবাদেরও অবশ্য একটা সীমা থাকে। নিয়ন্ত্রিত বহুদলীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে শাসকরা শাসনকার্য চালাতে চান, ভোটার জোগাড়ের জন্য তাদের একটা পার্টি (এবং সহযোগী রাষ্ট্র) প্রয়োজন হয় এবং নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের জন্য একটা রাষ্ট্র (এবং সহযোগী পার্টি) প্রয়োজন হয়।'' (দেখুন :'নির্বাচনী কর্তৃত্ববাদ', আন্দ্রেয়াস স্কেডলার সম্পাদিত 'দ্য লজিক অব ইলেক্টোরাল অথরিটারিয়ানিজম' গ্রন্থভুক্ত প্রবন্ধ, অনুবাদ :কল্লোল মোস্তফা, 'সর্বজনকথা', ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল ২০১৯) বর্ণনা শুনলে প্রথমে আমাদের বাংলাদেশের কথাই মনে হবে। তবে বাংলাদেশে নির্বাচনী ব্যবস্থা আগের যে কোনো অবস্থা থেকে নতুন এক পর্বে প্রবেশ করেছে। সাধারণভাবে বাংলাদেশে ত্রুটিযুক্ত যে নির্বাচন ব্যবস্থার ধারা ছিল; ২০১৮ সালের নির্বাচন তাও যেন অতিক্রম করেছে। এক কথায় বলা যায়, দেশে নির্বাচন নামের কোনো প্রতিষ্ঠানের এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই। জাতীয় নির্বাচনের পর অন্যান্য নির্বাচনে তাই নাগরিকরা এর জবাব দিয়েছেন নির্বাচনে অনুপস্থিতি দিয়ে। নির্বাচন বয়কটের এই প্রতিবাদে সরকার নিজের ভূমিকায় কোনোভাবে অনুতপ্ত বা বিব্রত তার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। 'উন্নয়ন'-এর ওপর খুব জোর দিচ্ছে বর্তমান সরকার। উন্নয়ন প্রকল্প যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যে কোনো পরিমাণ ব্যয় বরাদ্দ, যে কোনো শর্তে ঋণ গ্রহণ, যে কোনো দমন-পীড়নে কোনো কার্পণ্য বা দ্বিধা নেই। ইতোমধ্যে বহু প্রকল্পে বিশ্বে সর্বোচ্চ ব্যয়ের রেকর্ড হয়ে গেছে বাংলাদেশের। পেঁয়াজের দাম বিশ্বরেকর্ড করেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, ভর্তি, নিয়োগ- সবই এখন টাকার খেলা। সরকার নিজে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে বারবার, কর-শুল্ক্ক বাড়াচ্ছে। জিডিপি বাড়ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। সন্ত্রাসে জননিরাপত্তা বিপন্ন। একে একে সব প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ছে; কোনো কিছুই বাদ যাচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে উন্নয়ন দশক আমাদের এটাই প্রথম নয়। এর আগে আমাদের আরও দুটি উন্নয়ন দশকের অভিজ্ঞতা আছে। প্রথমটি ছিল জেনারেল আইয়ুব খানের উন্নয়ন দশক (১৯৫৮-৬৮), দ্বিতীয়টি উন্নয়নের প্রায় দশক, সেটি ছিল জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বাধীন (১৯৮২-৯০) আগের দুটি উন্নয়ন দশকেও গণতন্ত্র নিয়ে রকম কথা আমরা শুনেছি। আইয়ুব খান উন্নয়নের ধারা নিশ্চিত রাখার জন্য চালু করেছিলেন তার স্ব্বৈরশাসনের উপযোগী সংস্করণ মৌলিক গণতন্ত্র। এর বৈশিষ্ট ছিল, জেনারেল আইয়ুবের পকেটবাসী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তাদের দুর্নীতির পথ করে দেওয়া হয়েছিল। জেনারেল এরশাদও একই পথে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। উপজেলা নির্বাচন দিয়ে তার শুরুও হয়েছিল। কিন্তু ব্যাপক জাতীয় গণপ্রতিরোধের কারণে তার পরিকল্পনা পুরো বাস্তবায়ন হয়নি। এই তিন 'উন্নয়ন' দশকেই আমরা রাস্তাঘাট আর ভবন নির্মাণের ব্যাপক উদ্যোগ দেখি। আর সর্বজনের সম্পদ ব্যক্তি বা কোম্পানির মুনাফার সামগ্রী বানানোও এই দশকগুলোর এক অভিন্ন ধারা। তিন আমলেই গাড়ি যোগাযোগ গুরুত্ব পেয়েছে; সর্বজনের প্রয়োজন নয়, রেল বা নৌপথ নয়। বাংলাদেশের যোগাযোগের সবচেয়ে কার্যকর, সুলভ সহজ যোগাযোগমাধ্যম হতে পারত নৌপথ। এর পর রেলপথ। কিন্তু এতে ঋণদাতা, স্থানীয় রাজনীতিবিদ, ঠিকাদার কারও জন্য বিশেষ সুবিধা হতো না। ঋণদাতাদের তাগিদ ছিল গাড়ি বিক্রি; তা হয়েছে। রাস্তা বেড়েছে, গাড়ি বেড়েছে, ব্যয় বেড়েছে, জমি হারিয়েছে, দূষণ বেড়েছে, জটও বেড়েছে। অনেক নদী-খাল এগুলোর জন্য মৃতপ্রায়। জেনারেল আইয়ুবের সময় পূর্ব পাকিস্তানের এক বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প ছিল 'কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র' ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই প্রকল্পের জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই বাঁধে ভেসে গিয়েছিল রাঙামাটি শহর। এতে লক্ষাধিক চাকমা, মারমাসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি অশান্তি, বাঙালি ভিন্ন অন্যান্য পাহাড়ি জাতির সঙ্গে সহিংস সম্পর্ক, বহু মানুষের হত্যাকাণ্ড, সামরিকীকরণ, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি-…বিস্তারিত

Page 2 of 28